পেকুয়া প্রতিনিধি;
টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও খাদ্যসংকট, ভাঙাচোরা বসতঘর এবং অনিশ্চিত জীবনযাপনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন শিলখালী ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফা।
সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিলখালী ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার এবং ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ৫০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, চাল, ডাল, আলু, পিঁয়াজ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি যেসব পরিবারের বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তা বিতরণকালে মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফা বলেন, “দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়, সে লক্ষ্যেই ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”
ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে তাদের ঘরবাড়ি এবং জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই কয়েকদিন ধরে কর্মহীন থাকায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। এই সহায়তা তাদের জন্য সংকটময় সময়ে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্যোগের সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফার এ মানবিক কার্যক্রম অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
